আহমদ ফারাজের জীবনের বহুমাত্রিক দহন
প্রথাগত কবিদের মতো আলুথালু চুল বা ছন্নছাড়া জীবন ফরাজের ছিল না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিপাটি, শৌখিন, সফল ব্যবসায়ী এবং আধুনিক মনস্ক।
আহমদ ফারাজের জীবনের বহুমাত্রিক দহন
প্রথাগত কবিদের মতো আলুথালু চুল বা ছন্নছাড়া জীবন ফরাজের ছিল না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত পরিপাটি, শৌখিন, সফল ব্যবসায়ী এবং আধুনিক মনস্ক।

প্রাচ্যের কবি ডক্টর আল্লামা ইকবাল

“সরি”যেভাবে একটি সামাজিক ব্যাধি

ইসরায়েলের নকশায় ট্রাম্পের বেফাঁস যুদ্ধ!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দামামায় কাঁপছে বিশ্ববাজার

প্রাচ্যের কবি ডক্টর আল্লামা ইকবাল

“সরি”যেভাবে একটি সামাজিক ব্যাধি

ইসরায়েলের নকশায় ট্রাম্পের বেফাঁস যুদ্ধ!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দামামায় কাঁপছে বিশ্ববাজার

অপরাজেয় নেপোলিয়নের পরাজয়
“এই যুগে, গত যুগে বা যেকোনো যুগে; সময়ের সেরা সেনাপতি হলেন নেপোলিয়ন।” বলেছিলেন ডিউক অফ ওয়েলিংটন।

রোম যেভাবে বহু দেবতা থেকে এক ঈশ্বরে এলো

কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক মণিশঙ্করের প্রয়াণ


তারেক রহমান কি বাংলাদেশের পরিবর্তন আনতে পারবেন?
মতামত

তুঝসে জুদা“সদমা তো হ্যায় মুঝে ভি কে তুঝসে জুদা হুঁ ম্যায়” জগজিৎ সিং তাঁর মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে The Pioneer-কে দেওয়া শেষ সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন:“আপনি যত সহজ ভাষায় কথা বলবেন, শ্রোতা তত গভীরভাবে আপনাকে অনুভব করবে।” “আমি একজন গায়ক, যে গজলও গাইতে পারে।”এইভাবে নিজেকে সংজ্ঞায়িত করতেন কিংবদন্তি গজলশিল্পী পদ্মভূষণ জগজিৎ সিং। তিনি ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর সকালে মৃত্যুবরণ করেন, মাত্র ক’দিন আগে, ২৩ সেপ্টেম্বর ব্রেন হ্যামারেজ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।এই বছর তাঁর ৭০তম জন্মদিন উদযাপন করার ইচ্ছে ছিল, ৭০টি কনসার্টের মাধ্যমে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মাত্র ৪৬টি কনসার্টই সম্পন্ন করতে পেরেছিলেন। জগজিৎ সিং পণ্ডিত ছগনলাল শর্মা ও পরে উস্তাদ জামাল খানের কাছে সংগীত শিখেছিলেন। ১৯৭০ ও ৮০’র দশকে তিনি বিখ্যাত হন তাঁর কোমল কণ্ঠস্বর এবং গজলের ভিন্ন ধারার উপস্থাপনার জন্য।১৯৪১ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি, রাজস্থানে এক শিখ পরিবারে জন্ম। পরবর্তী সময়ে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬৫ সালে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আশায়। শুরুটা কঠিন ছিল; ছোট গানের অনুষ্ঠান, বাড়ির কনসার্ট, সিনেমার পার্টিতে গান গাওয়া -এই সবই ছিল প্রতিদিনের অংশ।তবুও তিনি আশা হারাননি। এই সাক্ষাৎকারে, সম্ভবত তাঁর শেষ সাক্ষাৎকারে, তিনি বলেছিলেন—“সবই ঈশ্বরের কৃপা। একসময় গজল কেবল ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে গাওয়া হতো, যেখানে ৬০-৭০ জন বোদ্ধা শ্রোতা থাকত। এখন তা বড় বড় কনসার্টে গাওয়া হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের সামনে। তাই আজকাল আমি এমন গজলই গাই যাতে মানুষ নিজেকে খুঁজে পায়। তিন ঘণ্টার কনসার্টে শ্রোতাদের আগ্রহ ধরে রাখা জরুরি। যেন এক মুহূর্তের জন্যও যেন তারা বিরক্ত বা ক্লান্ত না হয়।” গজলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেছিলেন—“এটা খুব কষ্টের কথা, কিন্তু হ্যাঁ, আমারও মনে হয় ধীরে ধীরে গজল হারিয়ে যেতে পারে। যদিও আমি বলছি না যে আর কেউ নেই। অনেক প্রতিভাবান শিল্পী আছেন। কিন্তু যদি উর্দু ভাষা বাঁচে, তবে গজলও বাঁচবে। আমি মনে করি সরকার উর্দুকে পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক করা উচিত। মানুষ যদি ভাষা বোঝে, তবে তারা গজলও বুঝবে।” তিনি গজলের বাদশা ছিলেন, কিন্তু রাম ধুন ও নিবেদন-এর মতো ভক্তিমূলক গানেও সমান দক্ষতা দেখিয়েছেন।“গজলের জনপ্রিয়তা কমছে, কারণ তরুণ প্রজন্ম বলিউড গানে বেশি আগ্রহী। কিন্তু মনে রাখবেন, তাদের বাবা-মা এখনো গজলে আগ্রহী। সৌভাগ্যক্রমে, এখনো আমি ভালো চাহিদায় আছি। সময় বদলেছে, মানুষের জীবনযাপন, পোশাক, আচরণ; সবই বদলেছে। গজলের উপস্থাপনাও বদলেছে। এখন গানের কথা অনেক সহজ।” “গালিব আজ থেকে আড়াইশো বছর আগে সহজ ভাষায় কবিতা লিখেছিলেন। হাজার খোয়ায়িশে অ্যায়সি… এটা একটা এমন গজল, যেটা সবাই বুঝতে পারে।” ১৯৯০-এর দশকে তিনি “নীম কা পেড়” টিভি ধারাবাহিকের জন্য যে শিরোনাম সংগীতটি গেয়েছিলেন, সেটি লিখেছিলেন নিদা ফাজলি। এটি আজও মানুষকে টিভির পর্দায় টেনে আনে। “আপনি যত সহজ ভাষায় গান গাইবেন, শ্রোতা তত আপনাকে ভালোবাসবে। ভালো গানের সৌন্দর্য সহজ কথার মধ্যেই লুকানো। এই জন্যই তো ‘ইয়ে দৌলত ভি লে লো, ইয়ে শোহরত ভি লে লো…’ এই গজলটি সবাই পছন্দ করে। এটা হৃদয় ছুঁয়ে যায়। মানুষ আবেগে ভেসে যায়, শৈশবে ফিরে যায়।” তিনি হতাশ ছিলেন বাস্তবতা শো ভিত্তিক প্রতিযোগিতাগুলোর কারণে।“ছেলেমেয়েরা ভাবে ওখানে গান গাইলেই তারকা হয়ে যাবে। হ্যাঁ, ওরা একটা প্ল্যাটফর্ম পায় ঠিকই, কিন্তু সেখানে ওদের শুধু ফিল্মি গান গাইতেই হয়। ওরা নিজেদের সৃষ্টিশীলতা প্রকাশ করতে পারে না। গজল বা ধ্রুপদী গান সেখানে নেই বললেই চলে।” তিনি বিশ্বাস করতেন ধৈর্য এবং সাধনার শক্তিতে।“যদি তোমার ধৈর্য থাকে, তাহলে শিখে যাওয়ার অর্ধেক পথ তুমি পেরিয়ে গেছো। রাগ শিখতে হয় মনপ্রাণ দিয়ে। আজকাল শিল্পীরা
রাজনীতি
কালচার
শিল্প
জীবন
আরো পড়ুন

আল মাহমুদ : আধুনিক বাংলা কবিতার প্রবাদপুরুষ
আল মাহমুদের কাব্যভাষা ছিল খুবই ঘন, চিত্রময় ও গভীর ভাবসম্পন্ন। তিনি গ্রামীণ জীবনের প্রতি প্রেম, ঐতিহ্য ও ইসলামী ভাবধারাকে কবিতায়

ঈদের দিনে বাংলার ঘরে ঘরের কার্যকলাপ
রমজানের দীর্ঘ এক মাস সংযম ও আত্মশুদ্ধির পর আসে ঈদুল ফিতর, আনন্দ ও সম্প্রীতির এক অপার উপলক্ষ। শুধু ধর্মীয় নয়,

ঈদুল ফিতর: আনন্দ ও ঐতিহ্য
ঈদুল ফিতর, মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলির মধ্যে একটি। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ঈদুল ফিতর অত্যন্ত আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে

শ্রীধর ভেম্বুর জীবনগল্প: এক অনুপ্রেরণামূলক যাত্রা
শ্রীধর ভেম্বু (Sridhar Vembu) ভারতীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মধ্যে অন্যতম সেরা নাম। তিনি Zoho Corporation-এর প্রতিষ্ঠাতা, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সফল একটি

প্রযুক্তি: সভ্যতার পরিবর্তন ও ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা
প্রযুক্তি আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি কেবল আমাদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করে তোলেনি, বরং সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির

মীর তাকি মীর: উর্দু কবিতার পথিকৃৎ
মীর তাকি মীর (১৭২৩-১৮১০) উর্দু সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসেবে পরিচিত। তাঁর গজল, যা গভীর আবেগ ও ভাষার সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ,

ফিওদর দস্তয়েভস্কি: মনস্তাত্ত্বিক কথাসাহিত্যের অগ্রদূত
ফিওদর মিখাইলোভিচ দস্তয়েভস্কি ১৮২১ সালের ১১ নভেম্বর রাশিয়ার মস্কোতে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মিখাইল দস্তয়েভস্কি ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং তার


রুমি: প্রেম, মানবতা ও ঈশ্বরের অন্বেষা
জালালউদ্দিন মুহাম্মদ রুমি (১২০৭-১২৭৩) ছিলেন একজন পারস্যের কবি, সুফি সাধক এবং ইসলামিক দার্শনিক, যিনি তাঁর আধ্যাত্মিক কবিতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি

ইউনুস এমরে : তুর্কি সুফিবাদের আলো ও মানবতার কবি
ইউনুস এমরে (১২৩৮-১৩২০) ছিলেন তুর্কি সুফিবাদের অন্যতম প্রধান কবি ও দার্শনিক। তাঁর কবিতা ভালোবাসা, আধ্যাত্মিকতা, মানবতা ও ঈশ্বরের প্রতি গভীর

